Home গীত ১১৬ বছর ধরে বাদ্যযন্ত্র বানায় যে দোকান

১১৬ বছর ধরে বাদ্যযন্ত্র বানায় যে দোকান

Share

চলতি গীত ডেস্ক: পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজারের সরু গলিতে একটি দোকান। বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ বাদ্যযন্ত্রের দোকানই মনে হবে। কিন্তু এর বয়স এক শতাব্দীরও বেশি।

নাম যতীন অ্যান্ড কোং।

১৯১০ সালে যতীন মোহন মণ্ডল প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেন। তখন তৈরি হতো হারমোনিয়াম, তবলা, ঢোল, দোতারা, সেতারসহ নানা বাদ্যযন্ত্র। প্রজন্ম বদলেছে, সংগীতের ধরন বদলেছে, কিন্তু দোকানটি এখনো টিকে আছে। বর্তমানে পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম এর সঙ্গে যুক্ত।

এই দোকানের ইতিহাস শুধু সংগীতের নয়, বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিবারটিকে ব্যবসা বন্ধ করে চলে যেতে হয়েছিল। পরে আবার ফিরে এসে দোকান চালু করেন তারা। ১৯৯২ সালে দোকান ও কারখানায় হামলা ও আগুনের ঘটনাও ঘটে। তারপরও বন্ধ হয়ে যায়নি যতীন অ্যান্ড কোং।

দোকানটির বিশেষ পরিচিতি তৈরি হয়েছে হাতে তৈরি হারমোনিয়াম ঘিরে। কাঠ কাটা থেকে শুরু করে রিড বসানো, সুর ঠিক করা—একটি হারমোনিয়াম তৈরির পেছনে রয়েছে কারিগরদের দীর্ঘদিনের দক্ষতা। তাদের তৈরি বিশেষ হারমোনিয়াম নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারও প্রতিবেদন করেছে।

কিন্তু এখন নতুন সংকট। আধুনিক ইলেকট্রনিক বাদ্যযন্ত্র, আমদানিনির্ভর পণ্য এবং বদলে যাওয়া বাজারের কারণে শাঁখারীবাজারের পুরোনো বাদ্যযন্ত্র ব্যবসা আগের মতো নেই।

১১৬ বছরের দোকানটি এখন তাই শুধু বাদ্যযন্ত্র বিক্রি করছে না—বাঁচিয়ে রাখছে পুরান ঢাকার সংগীতের একটি পুরোনো ইতিহাস।

Related Articles

প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে না পেরে জন্ম নেয় ‘ফেরারি এ মন’

চলতি গীত ডেস্ক:  বাচ্চুর জনপ্রিয় গান ‘ফেরারি এ মন’। অসংখ্য মানুষ গানটি...

রাতে জাগতেন, দিনে ঘুমাতেন—‘ভ্যাম্পায়ার বাদল’

চলতি গীত ডেস্ক: বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের জগতে এমন একজন মানুষ ছিলেন, যার দিন...

৬০০ টাকা নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু

চলতি গীত ডেস্ক: সময়টা ১৯৮৩ সালের শেষ দিক। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এলেন...

সম্পাদক ও প্রকাশক: জিয়াউল হাসান

চলতি একটি ফিচার স্টোরিভিত্তিক মাল্টিমিডিয়া পোর্টাল। মানুষের জীবন, সমাজ, সংস্কৃতি, অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম, সাফল্য এবং চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা ও গল্প নিয়ে আমরা কনটেন্ট তৈরি করি। চলতির প্রতিটি কনটেন্ট আমাদের নিজস্ব টিমের পরিকল্পনা, গবেষণা ও প্রযোজনায় তৈরি হয়। বাস্তব মানুষের গল্প এবং সমাজের পরিচিত-অপরিচিত নানা বিষয় সহজ, তথ্যসমৃদ্ধ ও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।

ওয়েবসাইটের লেখা/ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।