চলতি ডেস্ক: টুকরো লম্বা কাঠ, আর তার সঙ্গে ছোট্ট আরেক টুকরো কাঠ। ব্যাট নেই, বল নেই, দামি কোনো সরঞ্জামও নেই। অথচ একসময় এই দুই টুকরো কাঠ নিয়েই গ্রামের মাঠে জমে যেত তুমুল খেলা—নাম ডাংগুলি।
মাটিতে ছোট গর্ত করে তার ওপর রাখা হতো দুই মাথা সরু করা ছোট কাঠের টুকরো—গুলি। ডাং দিয়ে সেটিকে আঘাত করে শূন্যে তুলে আবার সজোরে মারা হতো দূরে। কার গুলি কত দূরে গেল, কে কত নিখুঁতভাবে মারতে পারল—তা নিয়েই চলত প্রতিযোগিতা।
একসময় স্কুল ছুটির পর কিংবা বিকেলে গ্রামের খোলা মাঠে দল বেঁধে ডাংগুলি খেলত ছেলেরা। আলাদা মাঠেরও দরকার হতো না। নিজেদের হাতেই বানিয়ে নেওয়া যেত খেলার সরঞ্জাম।
এখন গ্রামের মাঠেও ক্রিকেট-ফুটবলের দাপট। হাতে এসেছে মোবাইল ফোন, অনলাইন গেম। ফলে নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই ডাংগুলি শুধু পুরোনো দিনের গল্প।
তবে কোনো কোনো গ্রামে এখনো বয়স্কদের স্মৃতিতে বেঁচে আছে সেই খেলা। সুযোগ পেলে হাতে ডাং তুলে আজও তারা দেখিয়ে দিতে পারেন—কীভাবে দুই টুকরো কাঠ একসময় একটি বিকেলকে আনন্দে ভরিয়ে দিত।
খেলা হারিয়ে যাচ্ছে, সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার শৈশবের একটি পরিচিত দৃশ্যও।