ফেসবুকে হাজার বন্ধু। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা ইনস্টাগ্রামে সারাক্ষণ মানুষ। কিন্তু মন খুলে কথা বলার মতো মানুষ কি আগের মতো আছে?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের বড় এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পৃথিবীর প্রতি ৬ জনে প্রায় ১ জন একাকিত্ব অনুভব করেন। সবচেয়ে বেশি একাকিত্ব দেখা যাচ্ছে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে। ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের প্রায় ২১ শতাংশ এবং ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের প্রায় ১৭ শতাংশ একাকিত্বের কথা জানিয়েছেন।
আরেকটি চমকপ্রদ ছবি পাওয়া যায় যুক্তরাষ্ট্রে। Pew Research Center-এর ২০২৫ সালের জরিপে ১৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক জানিয়েছেন, পরিবারের বাইরে তাদের কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেই। যাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আছে, তাদেরও মাত্র ২৯ শতাংশ সপ্তাহে অন্তত কয়েকবার সামনাসামনি দেখা করেন।
তবে এর অর্থ এই নয় যে শুধু সোশ্যাল মিডিয়াই মানুষকে একা করে দিচ্ছে। WHO বলছে, একাকিত্বের পেছনে অসুস্থতা, আয়, একা বসবাস, সম্পর্ক ভাঙা, চাকরি হারানো, স্থান পরিবর্তনসহ অনেক কারণ কাজ করে; প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ ও গবেষণা চলছে।
পৃথিবী তাই অদ্ভুত এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে—যোগাযোগের মাধ্যম সম্ভবত ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি, অথচ অর্থপূর্ণ মানবিক সংযোগের প্রয়োজনটাও নতুন করে সামনে আসছে।