নিজের জমি বিক্রি করে পাওয়া টাকা দিয়ে সাধারণত মানুষ বাড়ি বানান, ব্যবসা করেন কিংবা ভবিষ্যতের জন্য জমিয়ে রাখেন। কিন্তু ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বেছে নিয়েছেন অন্য পথ। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থের একটি অংশ দিয়ে নার্সারি গড়েছেন। আর বছরের পর বছর গ্রামের রাস্তার পাশে লাগিয়ে যাচ্ছেন গাছ।
চরফ্যাশনের ওমরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বাবুল পেশায় একজন ইমাম। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৩৪ বছর ধরে তিনি গাছ লাগানোর কাজ করছেন। শুধু গাছ লাগিয়েই থেমে যান না—গাছগুলো বড় করার জন্য নিয়মিত পরিচর্যাও করেন।
তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ। রাস্তার পাশ ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও জনসমাগমের জায়গায় গাছ লাগিয়েছেন তিনি। স্থানীয় মানুষও এখন তাকে গাছ লাগানোর মানুষ হিসেবেই চেনেন।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, এই কাজের পেছনে তিনি জীবনের বড় একটা সময় ব্যয় করেছেন। বিনিময়ে ব্যক্তিগত লাভ কতটা হলো—সেই হিসাবের চেয়ে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে গাছগুলো বেঁচে থাকা।
একজন মানুষ কতগুলো গাছ লাগিয়েছেন, সেটাই হয়তো এই গল্পের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নয়। প্রশ্নটা বরং অন্য জায়গায়—
নিজের সম্পত্তি কমিয়ে যে মানুষ গ্রামের গাছ বাড়িয়েছেন, ৩৪ বছর পর সেই গ্রাম তাকে কীভাবে মনে রেখেছে?