স্কুলে পড়ার সময় টিফিনের জন্য টাকা পেতেন আশিকুর। কিন্তু সেই টাকা সব সময় নিজের জন্য খরচ করতেন না। টিফিনের টাকা জমিয়ে দরিদ্র মানুষকে সাহায্য করতেন তিনি।
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার খোর্দ্দ বেলাইচণ্ডী গ্রামের আশিকুর রহমান রিপন এখন এলাকায় পরিচিত ‘গরিবের বন্ধু’ হিসেবে।
একদিন গ্রামের বাজারে এক দিনমজুরকে মাটিতে শুয়ে কাঁদতে দেখেন আশিকুর। কাছে গিয়ে জানতে পারেন, অসুস্থ মানুষটির চিকিৎসা করানোর টাকা নেই। আশিকুর তাঁর পাশে দাঁড়ান।
এমন ঘটনা অবশ্য তাঁর জীবনে একটি নয়।
প্রায় এক যুগ আগে শতাধিক মানুষকে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ‘গ্রামীণ সাহায্য সংস্থা’। এই সংগঠনের মাধ্যমে অসহায় মানুষের চিকিৎসা, বিনা মূল্যে রক্তদান, দরিদ্র মেয়েদের বিয়েতে সহযোগিতা, নিরক্ষর মানুষকে অক্ষর শেখানোসহ বিভিন্ন কাজ করছেন তাঁরা। প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত ১৮ জন দরিদ্র পরিবারের মেয়ের বিয়েতেও সহযোগিতা করেছিল সংগঠনটি।
আশিকুরের এই অভ্যাসের পেছনে আছেন তাঁর বাবা। আশিকুরের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবা তাঁকে শিখিয়েছিলেন—মানুষের সেবা করেও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়।
ছোটবেলার সেই টিফিনের টাকা থেকে শুরু। আজও আশিকুরের চেষ্টা একটাই—কারও বিপদের কথা শুনলে তার পাশে দাঁড়ানো।